ভালুকায় বিদ্যুতের ভয়াবহ লোডশেডিং

images

ভালুকা প্রতিনিধি: ভালুকায় বোরো মওসুম শুরুর প্রথম থেকেই পল্লীবিদ্যুৎ ও পিডিবির লোডশেডিং দেখা দিলেও বর্তমানে তা ভয়াবহ রুপ ধারণ করেছে। একদিকে ভ্যাপসা গরম আর দিনের অধিকাংশ বিদ্যুৎ না থাকায় চলমান এইএসসি ও ডিগ্রি পরীক্ষার্থীরা চরম দূর্ভোগসহ মিলকারখনায় উৎপাদন ব্যহত হচ্ছে। উপজেলার সর্বত্রই পল্লীবিদুৎ ও পিডিবি’র শত শত অবৈধ সংযোগ থাকার কারণে অতিরিক্ত লোড পড়ায় এমনটি হচ্ছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বেশ কিছুদিন ধরেই দেখা দিয়েছে পল্লীবিদ্যুৎ ও পিডিবি’র ভয়াবহ লোডশেডিং। সকালে এমনকি সন্ধ্যা হতেই বিদ্যুৎ চলে যাই। ২৪ ঘন্টায় ৭ থেকে ৮ ঘন্টা বিদ্যুৎ থাকায় এবং নজিরবিহিন ভ্যাপসা গরমের কারণে চলমান এইচএসসি ও ডিগ্রি পরীক্ষার্র্থীরা চরম দূর্ভোগসহ ছোট-বড় কলকারখনায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। এদিকে এখন বোরো ধানের শীষ বের হওয়ার, বৃষ্টি না হওয়ায় এবং পল্লীবিদুৎ ও পিডিবি’র ভয়াবহ লোডশেডিংয়ের কারণে সঠিক সময়ে ক্ষেতে পানি দিতে না পারায় কৃষকরা পড়েছেন চরম বেকায়দায়।

অভিযোগে জানা গেছে, উপজেলার হবিরবাড়ি, রাজৈ, মল্লিকবাড়ি, ভরাডোবা, ধীতপুর, বিরুনীয়া, উথুরা, মেদুয়ারী, কাচিনাসহ বিভিন্ন এলাকায় পল্লীবিদ্যুৎ ও পিডিবি’র সহ¯্রাধিক অবৈধ সংযোগ রয়েছে। এসব অবৈধ সংযোগ থেকে পল্লীবিদ্যুদের কতিপয় অসাধূ কর্মকর্তা-কর্মচারীর যোগসাজশ থাকায় অবৈধ গ্রাহকরা মাসের পর মাস তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। ফলে এসব অবৈধ সংযোগের কারণে অতিরিক্ত লোড পড়ায় এবং তা যায়েজ করতে দেয়া হচ্ছে লোডশেডিং এবং তা উপজেলার সর্বত্রই সাধারণ নিয়মে পরিনত হয়েছে। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলের অবস্থা আরো ভয়াবহ। গ্রামে পল্লীবিদ্যুৎ গ্রাহকরা ২৪ ঘন্টায় ৬ থেকে ৭ ঘন্টাও বিদ্যুৎ পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেছেন।

উপজেলার বিভিন্ন এলাকার কৃষকরা জানান, বোরো মওসুমের শুরুতেই পল্লীবিদ্যুৎ ও পিডিবি’র মাঝে মধ্যেই লোডশেডিং দেখা দিয়েছে এবং তা বর্তমাণে ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। বৃষ্টি না থাকায়  ভরা মওসুমে বিদ্যুৎতের অভাবে ক্ষেতে পানি দেয়া সম্ভব হচ্ছেনা। ফলে ধানে চিটা হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিচ্ছে।

বেশ কয়েকজন অভিভাবক জানান, একদিকে মশার উপদ্রব ও প্রচন্ড গরম। আর অপরদিকে বিদ্যুতের লোডশেডিং। পরীক্ষার্থীদের এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে বিদ্যুতের লোডশেডিংয়ে তারা চরম ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন।

ভালুকা পিডিবির নির্বাহী প্রকৌশলী মো: শাহ আলমের কাছে লোডশেডিংয়ের ব্যপারে জানতে চাইলে তিনি সাংবাদিকদের সাথে খারাপ আচরণ করে বলেন, লোডশেডিং বিষয়ে কি বলবো, আমি এক নম্বর চোর! পরে তিনি ফোনটি কেটে দেন।

ময়মনসিংহ পল্লীবিদ্যুৎ সমিতি-২ (ভালুকা) এর জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) জাহাঙ্গীর আলম সন্ধ্যার পর কিছুটা শোডশেডিংয়ের বিষয়টি স্বীকার করে নয়া দিগন্ত কে জানান, ভালুকায় বিদ্যুতের চাহিদা রয়েছে ৩৩ মেগাওয়াট কিন্তু পাওয়া যাচ্ছে ২৪ মেগাওয়াট। অবৈধ সংযোগ সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ ব্যাপারে প্রায়ই অভিযান চলছে এবং তা বিচ্ছিন্ন করা হচ্ছে।

মন্তব্য করুনঃ