বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর বাণী

নিউজ ডেস্ক : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলা নববর্ষ ১৪২৩ উপলক্ষে নিম্নোক্ত বাণী প্রদান করেছেন
“বাংলা নববর্ষের এই শুভক্ষণে আমি দেশবাসী ও প্রবাসী বাঙালিসহ সবাইকে জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা ও শুভ নববর্ষ।

চৈত্রের অবসানে নতুনের বার্তা নিয়ে আমাদের জীবনে বৈশাখের আগমনি সুর বেজে উঠে। নববর্ষ মানেই নতুন আশায় উদ্দীপ্ত হওয়ার দিন। আমাদের লেখক, কবি, শিল্পীদের ছন্দ, বর্ণ, তুলি ও সুরে বাংলা নববর্ষ প্রতি বছর নতুন রূপে হাজির হয়। পহেলা বৈশাখ থেকে দেশের নানাস্থানে শুরু হয় বৈশাখি মেলা ও আড়ংসহ নানা আয়োজন, যা বিনোদনের পাশাপাশি দেশের অর্থনীতিতে আনে নতুন গতি। তাই বাংলা নববর্ষ আবহমান বাঙালি সংস্কৃতির এক বর্ণাঢ্য উৎসব ও অনন্য উৎস বিন্দু। বাঙালির সার্বজনীন উৎসব নববর্ষকে আমরা আবাহন করি প্রাণের স্পন্দনে, গানে-কবিতায়, আবেগের উত্তাপে।

আবহমান বাঙালির এ উৎসবে নতুন মাত্রা দিতে আমরা দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বাংলা নববর্ষ পহেলা বৈশাখে উৎসব ভাতা প্রবর্তন করেছি। বাঙালির শাশ্বত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সমুন্নত রাখতে আমরা বদ্ধপরিকর।

বাংলা নববর্ষ আমাদের জাতীয়তাবোধ ও চেতনাকে শানিত করে। বর্ষবরণের উৎসবে এ চেতনাকে নস্যাৎ করার জন্য স্বাধীনতার আগে ও পরে বহু ষড়যন্ত্র হয়েছে। আঘাত করা হয়েছে বার বার। বোমা মেরে মানুষ হত্যা করা হয়েছে। ধর্মান্ধ, সাম্প্রদায়িক শক্তির কোন অপচেষ্টাই সফল হয়নি। বাঙালি জাতি নববর্ষকে ধারণ করেছে তাদের জীবনযাত্রা ও সংস্কৃতির অনুষঙ্গ হিসেবে।

আমি আশা করি, পহেলা বৈশাখে বাঙালি সংস্কৃতির এ চর্চা আমাদের জাতিসত্তাকে আরও বিকশিত করবে। সাম্প্রদায়িকতা, ধর্মান্ধতা, জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার শক্তি যোগাবে। রাজনীতির নামে সন্ত্রাস, আগুনে পুড়িয়ে নিরীহ মানুষ হত্যা ও দেশের সম্পদ ধ্বংসকারী অপশক্তির বিরুদ্ধে আমাদেরকে আরও ঐক্যবদ্ধ করবে।

দেশব্যাপী বৈশাখি মেলা, চৈত্রসংক্রান্তির পালা-পার্বণ, নববর্ষের প্রতিটি মিছিল-শোভাযাত্রা পরিণত হোক মৌলবাদ, সাম্প্রদায়িকতা, অন্যায়-অবিচার, শোষণ-বৈষম্য এবং ক্ষুধা-দারিদ্র্যের বিরুদ্ধে সংগ্রামের হাতিয়ারে। ১৪২৩ সন সকল জরা ও গ্লানি মুছে দিয়ে বাঙালির জীবনে বয়ে আনুক সুখ, সমৃদ্ধি ও অনাবিল আনন্দ – এই প্রত্যাশা করছি।

জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু

বাংলাদেশ চিরজীবী হোক।”

মন্তব্য করুনঃ