কাউন্সিল ঘিরে উৎসবমুখর পরিবেশ

bnp-SP-Council-_1

ঢাকা: বিএনপির কাউন্সিল সফল করতে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্ততি। মঞ্চ তৈরি, কাউন্সিল কার্ড বিতরণসহ আনুষঙ্গিক কাজগুলো শেষ করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন নেতা-কর্মীরা। কাউন্সিল সফল করতে এক মুহূর্তও ফুরসত নেই কারো। বেশ উৎসবমুখর পরিবেশে দিনরাত কাজ করে যাচ্ছেন বিএনপির স্বেচ্ছাসেবীরা। কারণ শুক্রবারের মধ্যেই সব কাজ শেষ করতে হবে।

শনিবার সকাল ১০টায় শুরু হবে কাউন্সিলের প্রথম অধিবেশন। আর এ কাউন্সিলকে ঘিরে বেশ উজ্জীবিত নেতা-কর্মীরা। দলে জ্যেষ্ঠ নেতারাও একটি সফল কাউন্সিল করার প্রত্যাশার কথা শুনিয়েছেন।

বিএনপির ৬ষ্ঠ কাউন্সিলের দিন-তারিখ ঘোষণার পর থেকেই বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে বেশ চাঙ্গাভাব দেখা গেছে। দলটির নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে প্রতিদিনই দেখা গেছে কর্মীদের ভিড়। কারো কাজ আছে, কারো বা নেই। দলকে ভালোবেসেই দিন-রাত জমায়েত হতে দেখা গেছে তাদের। এমনকি গুলশানে চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ও সন্ধ্যার পর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত কর্মীদের সরব উপস্থিতিতে ছিল বেশ প্রাণচঞ্চল। রাজনৈতিক আড্ডায় আর ভবিষ্যতে নেতৃত্বের চুলচেরা বিশ্লেষণে সময় কাটে তাদের।

শুধু রাজধানীই নয়, প্রতিদিনই অন্যান্য জেলা থেকে ছুটে আসছেন দলটির তৃণমূল নেতাকর্মী আর সমর্থকেরা। কাউন্সিলকে ঘিরে যেন তৈরি হয়েছে একটা উৎসবমুখর পরিবেশ। কোন নেতা কোথায় পদায়ন হচ্ছে, কে পাচ্ছেন কাঙ্ক্ষিত পদ-পদবি তাই নিয়েই চলছে তাদের হিসাব-নিকাশ। আলোচনা-সমালোচনায়ও ব্যস্ত সময় পার করছেন অনেকে। সবকিছু ছাপিয়ে সকল আনন্দই যেন কাউন্সিলকে ঘিরে।

বৃহস্পতিবার সকাল থেকে কাউন্সিলরদের আইডি কার্ড বিতরণ করতে দেখা যায়। পাশাপাশি সংবাদ সংগ্রহের জন্য গণমাধ্যম কর্মীদেরও আইডি কার্ড সরবরাহ করা হয়েছে।

বিএনপির কাউন্সিলের জন্য নির্ধারিত ভেন্যু রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন চত্বরে বৃহস্পতিবার দিনভর প্যান্ডেল ও মঞ্চ তৈরি কাজ করতে দেখা যায়। এ ছাড়া ওই দিন দুপুরে কাউন্সিলের প্রস্তুতিকাজ দেখতে ভেন্যু পরিদর্শন করেন বিএনপির উপ-কমিটির নেতারা।

ভেন্যু পরিদর্শন শেষে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা আশা করব, কাউন্সিল অনুষ্ঠানের জন্য সরকারের সম্পূর্ণ সহযোগিতা পাব। ইতোমধ্যে কাউন্সিলর জন্য উপ-কমিটিগুলো তাদের সকল প্রস্ততি নিয়ে ফেলেছে।’

তিনি বলেন, ‘এ কাউন্সিল উপলক্ষে সারাদেশে নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। ফের জেগে ওঠার জন্য এ কাউন্সিল যে একটা অনন্য ভূমিকা রাখবে এ ব্যাপারে আমরা নিশ্চিত।’

দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ড. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, ‘দীর্ঘদিন পর দলের জাতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। স্বাভাবিকভাবেই নেতা-কর্মীরা উজ্জীবিত। কাউন্সিল সফল করতে সবাই যে যার অবস্থান থেকে কাজ করে যাচ্ছেন।’

তিনি বলেন, ‘আমরা দলের পক্ষ থেকে সব রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতাদের কাউন্সিল অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানিয়েছি। গত রাতে (বুধবার) জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদকে আমন্ত্রণ জানিয়েছি। তিনি কাউন্সিলের সফলতা কামনা করেছেন। এ ছাড়া বিকল্পধারার প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী, জেএসডির আ স ম আবদুর রব, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। সবাই আন্তরিকতার সঙ্গে বিএনপির কাউন্সিলের সফলতা কামনা করেন।

আপ্যায়ন উপ-কমিটির আহ্বায়ক দলের অর্থবিষয়ক সম্পাদক আবদুস সালাম বলেন, ‘আমরা একটি সফল কাউন্সিল করতে চাই। দলের নেতাকর্মীরা সবার অবস্থান থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছেন।’

আপ্যায়নের জন্য ইতিমধ্যে ১৯টি টিমকে তাদের দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়ার কথা জানিয়েছেন সালাম। এ ছাড়া অন্যান্য উপ-কমিটিগুলোও তাদের দায়িত্ব পালনে সচেষ্ট রয়েছে বলে জানা গেছে।

২০০৯ সালের ৮ ডিসেম্বর বিএনপির সর্বশেষ কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়েছিল। দীর্ঘ নয় বছর পর ১৯ মার্চ বিএনপির জাতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।

মন্তব্য করুনঃ